Posts

Showing posts from February, 2024

শ্বেতপাথরের ডালিয়া

Image
  শ্বেতপাথরের ডালিয়া রোজকার মতো আজও বিকেলে হাঁটতে বেরিয়েছিল অনিরুদ্ধ ও রঞ্জনা। গন্তব্য: বাড়ি থেকে মাইলখানেক দূরের কবরখানা, যার ভেতরে চক্কর মারা ওদের লকডাউনের প্রিয় রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূলের একটি সুন্দর শহরে ওদের বাস… তা-ও প্রায় তিনবছর হতে চলল। অথচ এই শহরটাকে ওরা চিনতে শিখেছে লকডাউন, অথবা বলা ভালো, ‘ওয়র্ক ফর্ম হোম’-এর কল্যাণে। আর এই নতুন-চেনা পর্বের সেরা আবিষ্কার এই কবরখানা।  অনিরুদ্ধ আর রঞ্জনা আগে বহুবার এটার পাশ দিয়ে গাড়ি নিয়ে গেছে আর নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছে জায়গাটার শান্ত, স্নিগ্ধ সৌন্দর্য নিয়ে। মুগ্ধ হয়ে দেখেছে কখনও গ্রীষ্মের উজ্জ্বল দিনে হাইড্রেনজিয়ার ঝকঝকে ফুটে থাকা অথবা হেমন্তের হাল্কা মিঠে রোদ্দুরে ওক, মেপলের লাল, হলুদ, কমলার অপার্থিব রঙবাহার। কিংবা রাতের অন্ধকারে কোনওক্রমে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় ফিসফিসিয়ে বলা ‘তেনাদের বাড়ি’, অথবা একে অন্যকে ঠেলা মেরে ‘গোরস্থানে সাবধান’– এই পর্যন্ত ঠিকই ছিল, কোনওদিন গেট পেরিয়ে ভিতরে ঢোকার তাগিদ অনুভব করেনি। আসলে এই কয়েকমাস আগেও তো অনি-রঞ্জা দু’জনের জীবনই ছিল একই ছন্দে বাঁধা। সাতসকালে অফিস বেরিয়ে সন্ধ্যা ...

স্বেচ্ছামৃত্যু

Image
   স্বেচ্ছামৃত্যু – চারবার, এই নিয়ে চারবার আমার আবেদন নাকচ হল ।  আই কান্ট টেক ইট এনিমোর। ডাক্তারবাবু, প্লিজ, আমি মরতে চাই! একনিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে হাঁপাতে লাগলেন স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদনপ্রার্থী সাগররঞ্জন পুরকায়স্থ ।  টেবিলের ওপারে বসে থাকা মানুষটি মোটেই উত্তেজিত হলেন না, বরং অল্প হেসে সামনে রাখা জলের গ্লাস এগিয়ে দিলেন ।  ‘মার্সি মেন্টাল হেলথ কেয়ার’-এর চিফ সাইকায়াট্রিস্ট তথা স্টেট সাইকায়াট্রিক কাউন্সিলের সেক্রেটারিকে এটুকু ধৈর্য রাখতেই হয় । – রিল্যাক্স, মিঃ পুরকায়স্থ ।  আপনাকে তো আগেই বলা হয়েছিল, বারবার আবেদন করে লাভ হবে না ।  শুধু শুধু পয়সা আর সময়ের অপচয় ।   একটু থামলেন ডাঃ নীলোৎপল সেন, তারপর শান্ত স্বরে বলে চললেন, – আপনি শিক্ষিত মানুষ, ক’দিন আগেও কলকাতার নামী কলেজে পলিটিক্যাল সায়েন্সের প্রোফেসর ছিলেন ।  এদেশের আইন তো আপনার অজানা নয় ।  সরকারের কঠোর নিয়ম, স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন মঞ্জুর হওয়ার ভ্যালিড গ্রাউন্ড থাকতেই হবে ।  নাহলে অনুমোদনকারী ডাক্তারের লাইসেন্স তো যাবেই, হাজতবাসও আশ্চর্য নয় । ঘড়িতে চারটে বেজে পঁচিশ, চেম্বারের দেয়ালে গোলাপি ...

মনের মাঝে

Image
 মনের মাঝে রান্নাঘরের জানলা দিয়ে পশ্চিমের আকাশটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। দুপুর শেষে বিকেল নামার তোড়জোড় চলছে, নীল ক্যানভাসে লালচে-গোলাপির বেখেয়ালি ছোপ। নভেম্বরের মাঝামাঝি শহরের আবহাওয়া অদ্ভুতরকম ভালো। উত্তরদিক থেকে নরম হাওয়া বইছে, তার তালে তালে দিগন্তরেখার কাছে সারি বেঁধে দাঁড়ানো গাছগুলো মেক্সিকান ওয়েভের মতো মাথা দোলাচ্ছে। একবার ওপরে, একবার নীচে— যেন ডুবতে বসা সূর্যকে বিদায় জানাচ্ছে। ‘কুহুহু… কুহুহু…’   কোকিলের ডাকে বেজে ওঠা কলিং বেলের আওয়াজ শুনে সবজি কাটার বোর্ড আর ছুরি একপাশে সরিয়ে রাখল বিনতা। বাবান স্কুল থেকে ফিরেছে, দরজা খুলতে হবে। ‘আসছি…’ তোয়ালেতে হাত মুছতে মুছতে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এল ও। ছবির মতো সাজানো দক্ষিণ কলকাতার পশ রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্স ‘স্বর্গদ্বার’-এর দোতলা বাংলোগুলো এমনিতেই বেশ বড়সড়, তার ওপর বাড়ির পেছনদিকের রান্নাঘরটাই বেশি ব্যবহার করে বিনতা। তাই ড্রয়িংরুম পেরিয়ে দরজা খুলতে একটু সময় লেগে গেল। ‘মাম্মা, আমি এসে গেছি…’ *** চার মাস আগে ‘প্লিজ ডক্টর, কিছু একটা করুন। বিনুর এই অবস্থা আর দেখতে পারছি না আমি। না ভালো করে খাচ্ছে, না ঘুমাচ্ছে। সারাদিন মনমরা হয়ে বাবানের স...