শ্বেতপাথরের ডালিয়া
শ্বেতপাথরের ডালিয়া রোজকার মতো আজও বিকেলে হাঁটতে বেরিয়েছিল অনিরুদ্ধ ও রঞ্জনা। গন্তব্য: বাড়ি থেকে মাইলখানেক দূরের কবরখানা, যার ভেতরে চক্কর মারা ওদের লকডাউনের প্রিয় রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূলের একটি সুন্দর শহরে ওদের বাস… তা-ও প্রায় তিনবছর হতে চলল। অথচ এই শহরটাকে ওরা চিনতে শিখেছে লকডাউন, অথবা বলা ভালো, ‘ওয়র্ক ফর্ম হোম’-এর কল্যাণে। আর এই নতুন-চেনা পর্বের সেরা আবিষ্কার এই কবরখানা। অনিরুদ্ধ আর রঞ্জনা আগে বহুবার এটার পাশ দিয়ে গাড়ি নিয়ে গেছে আর নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছে জায়গাটার শান্ত, স্নিগ্ধ সৌন্দর্য নিয়ে। মুগ্ধ হয়ে দেখেছে কখনও গ্রীষ্মের উজ্জ্বল দিনে হাইড্রেনজিয়ার ঝকঝকে ফুটে থাকা অথবা হেমন্তের হাল্কা মিঠে রোদ্দুরে ওক, মেপলের লাল, হলুদ, কমলার অপার্থিব রঙবাহার। কিংবা রাতের অন্ধকারে কোনওক্রমে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় ফিসফিসিয়ে বলা ‘তেনাদের বাড়ি’, অথবা একে অন্যকে ঠেলা মেরে ‘গোরস্থানে সাবধান’– এই পর্যন্ত ঠিকই ছিল, কোনওদিন গেট পেরিয়ে ভিতরে ঢোকার তাগিদ অনুভব করেনি। আসলে এই কয়েকমাস আগেও তো অনি-রঞ্জা দু’জনের জীবনই ছিল একই ছন্দে বাঁধা। সাতসকালে অফিস বেরিয়ে সন্ধ্যা ...